বৃহস্পতিবার , ৩১ অগাস্ট ২0১৭
  • হোম » জাতীয় » আদালত চত্বর থেকে পালানোর জন্য একাধিক ছক কষে ছিল গুরমিত




আদালত চত্বর থেকে পালানোর জন্য একাধিক ছক কষে ছিল গুরমিত

কলকাতা নিউজ ২৪ : 31/08/2017
download (3)
চন্ডীগড় : পাচকুলার সিবিআই আদালত চত্বরে হরিয়ানা পুলিশের হাত থেকে পালানোর জন্য একাধিকবার ছক কষে ছিল ডেরা সচ্চা সোধার প্রধান গুরমিত রাম রহিম। নিজের দেহরক্ষীর সাহায্যে আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন স্বঘোষিত গডম্যান গুরমিত রাম রহিম। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে যখন তাকে আদালত চত্বর থেকে জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই সময় নিজের আগ্নেয়াস্রধারী কমান্ডোদের সাহায্যে পালিয়ে যাওয়ার মতলব করেছিল গুরমিত রাম রহিম। হরিয়ানার আইজি কেকে রাও জানিয়েছেন সাজা ঘোষণা পর পুলিশের পক্ষ থেকে গুরমিতকে হরিয়ানা পুলিশের ডিসিপি(ক্রাইম) সুমিত কুমারের গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। ঠিক সেই সময় বেশ কয়েক বছর ধরে গুরমিতের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা গুরমিতকে ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয় তাদের। পুলিশ নিশ্চিত করে যাতে করে আদালত চত্বরে কোন রকম গুলি না চলে। তাই গুরমিতের দেহরক্ষীদের কাছে আগ্নেয়াস্র থাকা সত্ত্বে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দেহরক্ষীদের নিরস্র করে গুরমিতকে উদ্ধার করে পুলিশ।
আইজি কেকে রাও জানিয়েছেন যে গুরমিত আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যাওয়ার একাধিক ছক কষে ছিল। আদালতে সাজা ঘোষণা হওয়ার পরেই গুরমিত তার ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা একটি লাল রঙয়ের ব্যাগের কথা পুলিশকে জানিয়ে বলে যে ওটা তার দরকার। ওই ব্যাগে তার জামা কাপড় রয়েছে। গুরমিত জানান ব্যাগটি তিনি তার আশ্রম সিরসিরা থেকে এনেছেন। পুলিশ যখন গাড়ি থেকে লাল রঙের ব্যাগটি বের করছে ঠিক তখন আদালত চত্বর থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে টিয়ার গ্যাস ফাটে ও তার উত্তেজিত অনুগামীদের চিৎকার শোনা যায়। পুলিশ তখন বুঝতে পারে যে এটি একটি সংকেত ছিল তার অনুগামীদের উদ্দেশ্যে। যাতে করে তারা আদালতে ঢুকে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর পাঁচকুলায় সিবিআই আদালতের বারান্দায় হানিপ্রীত ও গুরমিত অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন এমনকি রোহতক জেলে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও গুরমিত গড়িমসি করে সময় নষ্ট করে। আইজি কেকে রাওয়ের অনুমান গুরমিত ভেবেছিল গড়িমসি করে সময় নষ্ট করবে আর তার অনুগামীরা আদালত চত্বরে ঢুকে তাকে নিয়ে যাবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে পাচকুলার আদালত চত্বর থেকে রোহতক জেলে গুরমিতকে নিয়ে যাওয়াই কঠিন ছিল। আইজি জানান যে পথ দিয়ে আদালত থেকে রোহতক জেলে গুরমিতকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সেই পথে ডেরা সচ্চা সোধার সন্দেহজনক ৭০ থেকে ৮০ টি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশ অনুমান করেছিল এই গাড়িগুলোতে গুরমিতে অস্রধারী অনুগামীরা থাকতে পারে। যারা নাকি পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে গুরমিতকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাই পুলিশ সেনা কেন্টমেণ্টের মধ্যে দিয়ে গুরমিতকে হেলিকপ্টর পর্যন্ত নিয়ে যায়। তাতে তার অনুগামীদের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম হয় পুলিশ। যদিও পথের মধ্যে ফের একবার গুরমিতের দেহরক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ২০ বছরের সাজা প্রাপ্ত গুরমিত রাম রহিম এখন রোহতকের সুনারিয়া কারাগারে বন্দী রয়েছে।


Executive Editor: Akash Biswas
Associate Editor : Advocate Anshuman Sengupta
Address : kolkata
E-mail: [email protected]
© Copyright 2015 FILM & CRCC Computer center All rights reserved.