রবিবার, ১0 সেপ্টেম্বর ২0১৭
  • হোম » লিড নিউজ » বাবা-মায়ের ন্যায় বিচারের প্রতিক্ষা। পূর্ব ৪




বাবা-মায়ের ন্যায় বিচারের প্রতিক্ষা। পূর্ব ৪

কলকাতা নিউজ ২৪ : 10/09/2017

IMG-20170907-WA0005

 

 

 

 

 

 

‘ চতুর্থ খন্ড’

 

ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে আছি, বাবা-মা ও ছোট বোন পিছনের সিটে বসে অনবরত কান্না করেই চলছে। আর আমি অনেক কথা ভাবতে ভাবতে চলছি। আমার বড় দিদির বাড়ি যাওয়ার পথে মানসাই নদী পার হতে হয় নৌকা করে। আমরা ঘাটে পৌছো ঘাটিয়ালদের ডাক দিলাম, তারা কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে তারারারি ঘুম থেকে উঠে আমাদের সবাইকে ওপারে পার করে দিল। নদী পার হয়ে আমরা আবার রওনা দিলাম।

রাত্রি ২ টার সময় আমরা বড় দিদির বাড়িতে পাঠালাম, সেখানে গিয়ে আমাদের চোখ কপালে উঠল। গিয়ে দেখি আমার ছোট দিদি ও ছোট জামাইবাবু বাড়ির আঙ্গিনার মধ্যে বসে আছে, ছোটদি তখনো কান্না করছে। আমার বড় জামাইবাবু ঘরের বারান্দার একটা ব্রেন্চ্রর মধ্যে একটা ল্যাপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে, আর ওর সারা শরীর থেকে মদের গন্ধ বার হচ্ছে। আমার ভাগিনীটি মানে ছোটদির মেয়ে ওর বাবার কোলায় ঘুমিয়ে আছে। ওর বয়স মাত্র ২ বছর নাম সোমাইয়া। বাড়িতে আর কোনো লোক নাই। আমার বাড়ির লোকেরা বড়দির কথা বলতেই ছোটদি ঘরটা দেখিয়ে দিল, এবং আমরা সবাই প্রায় হুড়মুড় করে ঘরটায় প্রবেশ করলাম। সেই সময় বড়দির মৃতদেহ টাকে দেখলাম বিছানায় শোয়ানো আছে, শরীরে একটা নাইটি পড়ানো আছে ওর গলায় একটা দড়ি যেটা ঘরের ধরনার মধ্যে এমনি ঝোলানো আছে। এইটুকুই দৃশ্য আমি দেখলাম তারপর ওখানেই মাটিতে শুয়ে আমি গড়াগড়ি করে কাঁদতে লাগলাম। বাকি লোকেরা তখন সেখানে কি করছিল সেই বষয়ে আমার কোনো হুশ ছিল না। কিছুক্ষন কাঁদার পর হঠাৎ করে আমি প্রচন্ড রাগী হয়ে ওঠলাম এবং ওখান থেকে ওঠে ঘরের বাইরে এসে বড় জামাইবাবু কে কিল, ঘুষি মারতে লাগলাম লাগাতার। সবাই তখন আমাকে আটকাতে লাগল, বিশেষ করে আমার বাবা বলল সবাই কে যাতে তারা যেনো আমাকে আটকায়। কিন্তু তখন আমি পুরোপুরি জ্ঞানশূন্য হয়ে পরেছি। সবাই মিলে, জানি না কতজন আমাকে আটকানোর জন্য ধরেছিল, সবাই কে ছাড়িয়ে নিয়ে আবারও মারতে লাগলাম তখন আবারও তারা আমাকে আটকাচ্ছে। কে যেন একজন আমাকে পিছন দিক থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে, আমার হাত ও আমাকে কয়েকজন মিলে শক্ত করে ধরে পিছন দিকে টানছে। কিন্তু সেই সময় যেন আমি সর্বশক্তিমান হয়ে পরেছি। হাত দুটো ধরে থাকার কারনে হাত দিয়ে মারতে পারছিলাম না, তাই তখন আমি আমার পা দুটোকে কিক মারার কাজে ব্যবহার করতে লাগলাম। আমি প্রচন্ড জোরে জোরে বড় জামাইবাবু কে লাথি মারতে লাগলাম। কিন্তু আমার বড় জামাই বাবু আমার এত মার খাওয়ার পরও ওখান থেকে ওঠছে না, সে শুয়েই আছে।  অনেক কষ্টে সবাই মিলে আমাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসলো। বাইরে আনার পর সবাই মিলে আমাকে ধমক দিতে লাগল।



Executive Editor: Akash Biswas
Associate Editor : Advocate Anshuman Sengupta
Address : kolkata
E-mail: [email protected]
© Copyright 2015 FILM & CRCC Computer center All rights reserved.