সোমবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২0১৭




বাবা-মায়ের ন্যায় বিচারের প্রতিক্ষা পূর্ব ৫

কলকাতা নিউজ ২৪ : 11/09/2017

IMG-20170911-WA0094

 

 

 

 

 

 

 

 

কিছুক্ষন পর আমার বাবা আসলো আমার কাছে,  আমাকে তিনি রাগ কমাতে বললেন। তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে বোঝাতে লাগলেন। শুধু আমি নই, আমাদের গ্রামের সমস্ত লোক আমার বাবাকে একজন মাটির মানুষ হিসাবেই চেনেন। আমি খুব ভালো করেই জানি বাবা মারামারি একদম পছন্দ করেন না। তিনি দেশের আইনের প্রতি অগাধ বিশ্বাস করেন। তার কারন তিনি বিভিন্ন কেসে নিজের সততার দিকেই শুনানি পেয়েছেন। আমি জানি তিনি পুরোপুরি ভেঙ্গে পরেছেন, কিন্তু সেখানে আমার এই রকম রাগ দেখে তিনি আমাকে প্রচন্ড ধমক দিলেন। আমার বাবা অন্যায়ের প্রতিবাদ আইনের মাধ্যমেই করেন, তিনি কখনোই ওনার জীবনে আইন নিজের হাতে তুলে নেননি। যাইহোক তিনি আমাকে শান্ত করে বললেন, এখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। বাবা, আমি ও আরও কয়েকজন মিলে আলোচনায় বসলাম। আলোচনায় সবাই এটাই বলতে লাগলাম, মানুষ কি করে এমন হতে পারে, বাড়িতে এত গুলো লোক সবাই কি করে নিশ্চন্তে ঘুমিয়ে পরেছে যে বাড়িতে কিনা একটা মৃতদেহ পরে আছে। আমার দিদির অর্থাৎ যে দিদি মারা গেছে তার একটা ছোট ছেলে বাচ্চা আছে সে সোমাইয়ার থেকে ৪০ দিনের ছোট, তাকে আর রাতে আমরা খুঁজলাম না কারন সে হয়ত কারো সাথে ঘুমিয়ে পরেছে। বাবারা রাতেই ওই এলাকার প্রধান ও পন্চায়েতের কাছে গেলেন ঘটনা টা  তাদের জানানোর জন্য। আমি বাদ দিয়ে সমস্ত পুরুষ রাই চলে গেলো প্রধান ও পন্চায়েতের বাড়িতে এবং আমি এখানেই রইলাম।

ভোর চারটের দিকে তারা প্রধান ও পন্চায়েতের সাথে আলোচনা শেষ করে ফিরে আসলো। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম কি আলোচনা হলো। বাবা আমাকে জানালো প্রধান ও পন্চায়েতের সাথে আলোচনার কিছুই নেই, তাদের জানানোর প্রয়জন ছিল তাই জানালাম। তিনি আরও বললেন ———- ” আমার অভিজ্ঞতায় তাদের সাথে আলোচনা করে বুঝলাম, প্রধান ও পন্চায়েতের বাড়িতে অনেক আগেই বিষয় টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাই সেখানে প্রধান ও পন্চায়েত আমাদের তেমন কোনো মূল্য দিল না”। বাবার এই মন্তব্যে সকলেই একবাক্যে সহমত প্রকাশ করলেন। আমার একটা দাদু অর্থাৎ আমার বাবার কাকা বললেন——– ” এই এলাকার প্রধান ও পন্চায়েত তার নিজ এলাকার লোকেদের সাপোর্ট করবে এটা তো স্বাভাবিক”।

এর পর বাবা সবাই কে বললেন এখানে সময় নষ্ট করে কোনো লাভ নেই, তারাতারি থানায় যাবেন বলে মন্তব্য স্থির করলেন। আমাকে সেখানেই রেখে তারা ভোর সাড়ে চারটার দিকে থানার অভিমুখে যাত্রা শুরু করলেন।



Executive Editor: Akash Biswas
Associate Editor : Advocate Anshuman Sengupta
Address : kolkata
E-mail: [email protected]
© Copyright 2015 FILM & CRCC Computer center All rights reserved.